December 08, 2021
April 12, 2021
প্রেমিকের বারোমাস্যা
‘তোমার শরীর জুড়ে ঘুরছে যে-হাত,
কখনো উত্তুঙ্গে আর
অতলে চঞ্চল
হতে পারে সে এক মুগ্ধ
পর্যটক
বেড়াতে এসেছে শুধু,থাকতে
আসেনি।’
সত্যি
প্রেম এক মুগ্ধ পর্যটক,নতুন আবিষ্কারে সে মোহিত হয়ে দু’চোখে চায়, বুক ভরে নিয়ে ফেরে
এক অজানা পথকে নিজের চেনা ঠিকানা বানিয়ে। সেই পাওয়া না-পাওয়া প্রেম ও তার নানা রূপ
নিয়ে হাজির কবি অভিজিৎ চক্রবর্তী তার এক ফর্মার বই ‘প্রেমিকের বারোমাস্যা’।
আসলে কবিতা মানেই তীব্র প্রেম ও প্রতিটি কবি
তার অবিচল প্রেমিক। সেই প্রেমিকের ভালোবাসার আর্তি ফুটে উঠেছে এই বইয়ের পাতা জুড়ে,বইয়ের মলাট হয়ে উঠেছে নরম লাল।
একটি
সূত্রধর ও বাকি বারোটি কবিতা রয়েছে বারো মাসের প্রতিনিধি হয়ে এই প্রেমের রাউন্ড টেবিল
কনফারেন্সে। বৈশাখের রবিঠাকুর, জৈষ্ঠের জামাই ষষ্ঠী থেকে চৈত্রের গাজন- কি নেই এই সন্মেলনে।
‘তারপর?-তারপর সেই
অসমাপ্ত নিবেদন
খড় দহনে অঙ্কুরেই
শুকিয়ে গেল।
আর ছেলেটা?- এখন
সে গান শেখায়,
মূলত রবীন্দ্রসংগীত
।’
প্রেম
মানে কিছুটা পাওয়া ও অনেকটা না পাওয়া। তাই কবি লিখছেন
‘... আপনি মহিলা
কবি, যদি কোনোদিন
প্রেমিকের বারোমাস্যা
লেখেন, জৈষ্ঠের এই জলকষ্ট
সবিস্তারে লিখবেন
প্লিজ।’
প্রেম আসবে আর বৃষ্টি আসবে না, তা কি সম্ভব?
তাই আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র নিয়ে আসে ব্যর্থ প্রেমের কাদামাখা চপ্পল, পদ্মপুরাণ ও একটি গোলাপী
ছাতা।
‘তারপর হাঁটতে হাঁটতে
হাঁটতে
সেই তীব্র গোলাপী
ছাতাটা
ছেলেটার দিকে হেলতে
থাকল
হেলতে হেলতে হেলতে
ওই ওরা শ্রাবণ পার
হয়ে যাচ্ছে।’
প্রেম
মানে আবেগ, প্রেম মানে প্রতীক্ষা, প্রেম মানে রোজকার জীবনের মাঝে একটু মন ছুঁয়ে থাকা।
তারা জেনে গেছে,
খাকি পোষ্টম্যান
পুরোনো ঠিকানায় আর
তাহাকে পাবে না’
প্রেম
আছে বলেই কার্ত্তিক এলে ঊল বোনার আবদার আছে, আছে পৌষের বনভোজনে মাফলার না পরার জন্যে
বকুনি, আছে মাঘের মায়াবী রাতে আগুন আদর।
‘বিপুল কুয়াশায় ঢাকা
মাঘের মায়াবী রাত
পার হয়ে বসন্তের
দিকে
যেতে যারা সংকল্প
নিয়েছে,
তার জানে অন্তরে
উষ্ণ না হলে
শীত সব গিলে খেয়ে
ফেলে।’
‘প্রেমিকের বারোমাস্যা’ এক ভালোবাসার কাব্যকথা।
তবু এখানে না পাওয়ার আর্তিকে কবি যেন বারবার ধরতে চেয়েছেন নানা আঙ্গিকে। এ যেন সেই
মন খারাপের উদযাপন। প্রেমের উচ্ছল রূপটি এখানে খুব হালকা চলে ধরা পড়ে। বইটি হাতে ধরে
পাঠকের অবশ্যই মনে পড়ে যাবে জীবনের হারানো পাতার
মাঝে লুকিয়ে রাখা শুকনো গোলাপ প্রেম, খুঁজে পাবেন সেই প্রেম যে বেড়াতে এসেছে শুধু,থাকতে আসেনি।
বই : প্রেমিকের বারোমাস্যা
কবি : অভিজিৎ চক্রবর্তী
প্রকাশকাল : ২০২০
প্রকাশক : যাপনকথা প্রকাশনী
প্রচ্ছদ : রাজদীপ পুরী
July 01, 2020
তোমাকে...
‘তোমাকে দেখেছি স্বপ্নের মুহূর্তে
তোমাকে দেখেছি প্রেমে-ভালোবাসায়
তোমাকে কখনো দেখেছি কি...’
মুখোমুখি পাই যদি পথে’
কত কথার পরও দিইনি
শুধু কবিতায় লিখেছি। ’
পথ চলে যায় পথের উদ্দেশে
আমি শুধু হেঁটে যাই
বহু দূর চলে যাই...’
স্বপ্নে আসো , তবু থাকো মুখ লুকিয়ে।’
তারপরও
সমর্পণ করিনি মৃত্যুর কাছে’
অন্তিম গন্তব্য শুধু
অলংকারের শেষ ঝঙ্কার’
স্তব্ধ শব্দ, স্তব্ধ কথা, স্তব্ধ লেখা।
তোমার সামনে নতজানু
তোমাকে নিয়ে যত কবিতা।’
ঝড় হোক
ফিরবো না...’
মনের রং জাগে সন্ধ্যার গায়ে
যেখানে কেবল আলো হয়ে
প্রতীয়মান শুধু তুমি। ’
লেখক : কোলাজ রায়
প্রকাশকাল : ২০১৮
প্রকাশক : বাংলা সাহিত্য সমাজ, গুয়াহাটি
প্রচ্ছদ : নয়নজ্যোতি শর্মা
June 27, 2020
পোয়েটিক জানলায় কবিতার-মেঘ
‘এখন
অন্ধকার চারিদিক
অথচ কিছু
আগেও কলরব ছিল এই পথে
সকালের
স্নিগ্ধ আলো পড়েছিল
ধূলি আলপনার উপর...’
এই নিগূঢ় অন্ধকার মনের প্যালেটে কথার ভীড় আঁকে, সেই কথারাই তো সাজে কবিতার মেঘ। মেঘেরা এসে আসর জমায় কবির জানলার কাঁচ ঘেঁষে। জন্ম নেয় ‘পোয়েটিক জানলায় কবিতার-মেঘ’। কবি নীলদীপ চক্রবর্তী তাঁর এই দু’মলাটের কবিতার বই জুড়ে পাঠকদের শুনিয়েছেন সেই সব মেঘেদের ফিসফাস কথা।
এই বইয়ের কবিতারা মনের কথা বলে। যে কথাদের সাজানো অলংকার চাই না সৌন্দর্যের খাতিরে। এ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তারাও হয়ে উঠেছে ঝকঝকে স্মার্ট।
‘প্রতি
সন্ধ্যায় অর্ধেক চাঁদ নামে
নির্মীয়মান
ফ্ল্যাট বাড়ির জলের পাইপ ধরে,
এর ঠিক
বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকবে তুমি...’
‘এখনো
তোর অট্টালিকার রঙিন ডিস্টেম্পার
দেওয়ালের
বদলে আকাশ, কালো জানলায়।’
মানব মনের বিচরণ বড় অদ্ভুত। কি নেই সেখানে ! যৌবন
– কৈশোর, প্রেম- বিরহ, জীবন- মৃত্যু, সব রঙের ককটেল। সেই ককটেলটি সুদৃঢ় কাঁচের গ্লাসে
পরিবেশন করেছেন কবি।
‘প্রেম,
তুমি কি রেলগাড়ি হতে পার,
ছোট্ট
ছেলের কল্পনারই লোকে?’
‘হে
যক্ষ, হে মেঘ, হে প্রেম
যত
মৃত্যু সব
শেষবার
জীবন হয়ে যাক।’
জীবন মানে শুধুই স্বপ্নসুখ নয়, জীবন মানে ঘোরতর বাস্তব ও তার চাওয়া পাওয়া।
তাই কবির কলমে উঠে এসেছে কিছু খুঁজে বেড়ানো প্রশ্ন, কিছু না পাওয়া ইচ্ছেকুচি। কবিমন
বার বার আঘাত হানে পাঠকের চেতনায়। বলে ওঠেন-
‘কোন
অগ্নি, কোন বন্যা, কে ভাষায়
কে পোড়ায়
– ভাষা মায়ের মৃত শরীর?’
‘বোবা
কান্না মূল থেকে গভীর ধ্বনিতে
কন্ঠে
যে ঈশ্বর আছেন নির্বাক বধির’
জীবন যাপনের খবর জানাতে কবি শোনায়-
‘আমরা
কাটি পুরোনো কাস্তে দিয়ে
হেলে
দুলে পড়া কালো কালো যহ ধান
আমরা
কাটি দিন, কাটি রাত্রি-নিদ্রাহীন।’
‘পোয়েটিক জানলায় কবিতার-মেঘ’এর প্রচ্ছদটি যেমন
জানলার গ্রীল জুড়ে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশের জানান দেয়, এই বইটির কবিতাতেও উঠে এসেছে
বিভিন্ন আঙ্গিক, বিভিন্ন রঙ, বিভিন্ন অভিব্যক্তি।উঠে এসেছে স্বপ্ন বিহার-
‘অষ্টমীর
স্নানের মোহনায় ফুটে থাকে
বসন্ত
কিশোরীর পদচিহ্ন।’
উঠে এসেছে কঠিন বাস্তব-
‘কারেংএর
বিধৃত উপত্যকায় একা দাঁড়িয়েছে আহোম যুবক
ওর হেংদাং
নিথর শুয়েছে খাপে...’
পাঠক শুধু তুলে নেবে হাতে এবার, দু’চোখ ভরে দেখবে
রামধনু- এক মেঘাচ্ছন্ন আকাশের বুকে।
বই : পোয়েটিক জানলায় কবিতার-মেঘ
লেখক : নীলদীপ চক্রবর্তী
প্রকাশকাল
: ২০১৯
প্রকাশক
: নান্দীমুখ প্রকাশনী
প্রচ্ছদ
: পুষ্পল দেব
May 29, 2020
চন্দ্রাহত
প্রকাশিত ' মে'খানা - শুধু কবিতার ' পত্রিকায়, পঞ্চম প্রকাশ, মে, ২০১৯ ( গুয়াহাটি, অসম )
More to see...
-
‘পঞ্ছি নদীয়া পবনকে ঝোঁকে, কোই সরহদ না ইনহে রোকে’ না, না, এ কোনো বাঙ্গালী কবির লাইন নয় আমি জানি , জাভেদ আখতারের শব্দ ও সোনু নিগমে...
-
আজ আলোর পুজো আমার নরম গালে হলুদ দুধের রূপটান আয়না ঘেঁষা ফাউন্ডেশনে আরেক পোঁচ প্রস্তুতি অথচ... আজ আলোর পুজো অথচ... আজ কালোর পুজো।
-
Quilling or more specifically Paper Quilling is an art form of creating designs and images using strips of coloured paper that are rolled...
-
‘এখন অন্ধকার চারিদিক অথচ কিছু আগেও কলরব ছিল এই পথে সকালের স্নিগ্ধ আলো পড়েছিল ধূলি আলপনার উপর...’ এই নিগূঢ় অন্ধকার মনের প্যালেটে কথার...
-
‘তোমাকে দেখেছি স্বপ্নের মুহূর্তে তোমাকে দেখেছি প্রেমে-ভালোবাসায় তোমাকে কখনো দেখেছি কি...’ এক বিশাল ক্যানভাস জুড়ে কিছু কাগজ, রঙ, চুম...


